আবু তাহের, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চস্থ হয়েছে নাটক ‘টাইম ট্রাভেলার’। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ৩য় বর্ষের ‘অভিনয় অনুশীলন (ব্যবহারিক)’ কোর্সের অংশ হিসেবে নাটকটি প্রদর্শিত হয়।
বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার ( ৯, ১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবনের জিয়া হায়দার ল্যাবে দুই দিনব্যাপী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের প্রভাষক কৌশিক কর।
এইচ জি ওয়েলসের বিখ্যাত রচনা ‘টাইম মেশিন’ অবলম্বনে ‘টাইম ট্রাভেল’ নাটকটি মূলত একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীভিত্তিক উপস্থাপনা। সময় ভ্রমণের ধারণার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মানুষের বর্তমান কর্মকাণ্ড বিশেষ করে পরিবেশ ধ্বংস, প্রাণী ও উদ্ভিদের ওপর নির্যাতন এবং অনিয়ন্ত্রিত ভোগবাদ ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
নাটকে দেখানো হয়েছে, মানুষের নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে প্রকৃতির ওপর চালানো এই ধ্বংসযজ্ঞ শেষ পর্যন্ত মানুষের অস্তিত্বের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।এছাড়া উন্নত প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব কীভাবে মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করছে এবং ধীরে ধীরে মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, সেই দিকটিও নাটকে গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে মানুষ কীভাবে নিজস্ব স্বাধীনতা হারাতে পারে এবং ডিভাইস নির্ভর জীবন একসময় মানুষের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে এই আশঙ্কাগুলোও নাটকের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
নাটকটির নির্দেশক কৌশিক কর বলেন, ‘নাটকটি মূলত এইচ জি ওয়েলসের একটি উপন্যাস অবলম্বনে করা । এখানে বিভিন্ন পারফর্মার, বিভিন্ন জন বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এটা যদিও ২০০ বছর আগের উপন্যাস, আমরা উপন্যাসের মূল যেই বক্তব্যটি ছিল সেটা ঠিক রেখে ভবিষ্যৎ পৃথিবী কেমন হতে পারে, সেটার একটা কাল্পনিক উপস্থাপন করেছি এখানে। আগামীতে পৃথিবীতে অক্সিজেন থাকবে না। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে মানুষ। এছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তির একটা ভয়াবহতা আমরা দেখতে পাচ্ছি। একটা সময় কোড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে সবকিছু। সেটার জন্য একটা সময় শত্রুতে পরিণত হবে আমাদের ডিভাইসগুলো। সেটা আমরা আমাদের কল্পনায় দেখতে চাচ্ছি আর সেসবই তুলে ধরেছি এখানে।’
