ডেস্ক রিপোর্ট: ফ্রান্স ও জার্মানি শুক্রবার (২৯ আগস্ট ২০২৫) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ইউরোপের দেশগুলো নিজস্ব প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা আইন প্রণয়নের অধিকার রাখে। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প সোমবার হুমকি দিয়েছিলেন যে, যে কোনো দেশ ডিজিটাল কর বা প্রযুক্তি বিধান আরোপ করলে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “কর ও নিয়মকানুন নির্ধারণ করা আমাদের দেশের এবং ইউরোপীয় সংসদের অধিকার। আমরা অন্য কাউকে আমাদের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে দেব না।” তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ আমাদের উপর চাপ দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা তা প্রতিরোধ করব। এটি EU-এর ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন’ নীতির আওতায় আসবে, যা অন্য দেশকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করলে EU প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।”
জার্মান চ্যান্সেলর মের্জ বলেন, “আমরা আমাদের নিজস্ব স্বার্থে আইন তৈরি করছি। এটি আমাদের সার্বভৌম অধিকার। কেউ এ বিষয়ে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। ট্রাম্পকে আমি জানিয়েছি যে, EU কীভাবে ডিজিটাল বাজার নিয়ন্ত্রণ করে তা তাদের স্বার্থে করা। আমরা অন্য দেশের বক্তব্যের ভিত্তিতে আইন পরিবর্তন করব না।”
EU-এর ডিজিটাল নীতিগুলো মূলত দুইটি আইনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে: ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (DMA) এবং ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (DSA)। এই আইনগুলো প্রযুক্তি জায়ান্টদের ক্ষমতা সীমিত করে এবং বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিকে অবৈধ বা ক্ষতিকর কনটেন্ট মোকাবেলা করতে বাধ্য করে। EU কমিশন জানিয়েছে, এই আইনগুলো সকল প্রতিষ্ঠান ও প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রযোজ্য, শুধু মার্কিন কোম্পানির জন্য নয়।
EU-এর কমিশনও বলেছে যে, এটি প্রত্যেক দেশের সার্বভৌম অধিকার যে তারা তাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। EU-এর নিয়ম অনুসারে, অন্য কোনো দেশ EU-এর নীতি পরিবর্তনের জন্য চাপ দিতে পারবে না। যদি কেউ চাপ দেয়, তবে EU ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন’ বিধান অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাবে।
ম্যাক্রোঁ ও মের্জের এই বক্তব্য EU-এর শক্ত অবস্থান প্রতিফলিত করছে। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, ইউরোপের দেশগুলো তাদের ডিজিটাল ও প্রযুক্তি আইন নিয়ে স্বাধীন। কোনো বিদেশী চাপের সামনে তারা আপস করবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের হুমকি ও EU-এর কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ডিজিটাল কর ও নীতির বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও উত্থাপন করছে।
