
ডেস্ক রিপোর্টঃ শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাত থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলে ব্যাপক অস্থিরতা। স্থানীয়দের পক্ষ নিয়ে চবির সংঘর্ষে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ছিল দুর্বল।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে (২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী সাকিফা খাতুন শনিবার রাত ১১টার দিকে ২ নম্বর গেটের কাছে অবস্থিত ভাড়া বাসায় প্রবেশ করতে চেষ্টা করেন। দারোয়ান বাধা প্রদান করলে এবং এক পর্যায়ে সাকিফাকে শারীরিক আঘাত করলে সেখান থেকে ঝামেলার সূত্রপাত হয়।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার ভোর পর্যন্ত সংঘর্ষ চলার পর রোববার বহিরাগত লোকজনও সেখানে অংশগ্রহণ করে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগেরও সরব উপস্থিতি ছিল উক্ত ঘটনায়।
সংঘর্ষ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটে একদল হামলাকারীকে “জয় বাংলা” স্লোগান দিতে শোনেন এলাকাবাসীরা। হামলাকারীরা যেসব অস্ত্র ব্যবহার করেছে সেগুলো স্থানীয়দের নয় বলেও দাবি করা হয়।
উক্ত ঘটনায় শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক হতাহত হয়েছে বলে জানা যায়।

এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। শনিবার রাত ১২টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হলেও সেনাবাহিনী ঘতনাস্থলে উপস্থিত হয় রাত সাড়ে ৩টায়।
শিক্ষার্থীরা জানান, পরিস্থিতি খানিকটা নিয়ন্ত্রণে এনে সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশও ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যার ফলশ্রুতিতে কয়েক দফায় তাদের উপর পুনরায় হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।
পরদিন রোববার আবারও দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা তা নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করেন। তবে টানা পাঁচ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি চোখে পড়েনি কারও।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের উপর হামলার উস্কানিদাতা হিসেবে ভূমিকা রাখায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু উদয় কুসুম বরুয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এড. রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ জানানো হয়।
সুত্রঃ আমার দেশ
