বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি, কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশিও বিমানবন্দরে হঠাৎ প্রাণ হারিয়েছেন। কেন এমন ঘটনা ঘটে এবং কীভাবে নিরাপদে যাত্রা করা যায়—এই বিষয়গুলো নিয়েই নিজের ফেসবুক পেজে আলোচনা করেছেন কার্ডিওভাসকুলার অ্যান্ড থোরাসিক সার্জন, প্রফেসর ডা. সাকলায়েন রাসেল।
নিচে উনার লিখা হুবুহু তুলে ধরা হলো-

সারাবিশ্বে বাড়ছে বিমানবন্দরে মৃত্যুর ঘটনা!!
এমনকি বেশ কয়েকজন বাংলাদেশীও ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। কেন এমন হয়, করণীয় কি—এসব নিয়েই কথা বলতে চাই।
ঘটনা-১:
দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোর্ডিং পাস নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন রুবেল। বিমানবন্দরের কর্তব্যরত চিকিৎসক পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রুবেল পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিলেন এবং তার কোনো ভাইবোন নেই। প্রায় এক যুগ আগে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকা পাড়ি জমালেও কাগজপত্রের জটিলতার কারণে এতদিন দেশে ফিরতে পারেননি।
বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশে কুয়েত থেকে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইমিগ্রেশন বোর্ডিং পাসও সম্পন্ন করেছেন। এখন অপেক্ষা কেবল বিমানে উঠার। আর সেই মুহূর্তে স্ট্রোক করে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মারা গেছেন দেলোয়ার হোসেন নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি।
ঘটনা-৩:
২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫৬ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি যাত্রী হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি ঢাকা ফেরার পথে ছিলেন।
ঘটনা-৪:
২০২৫ সালের ২৩ জুলাই, চীনের কুনমিং চাংশুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরছিলেন।
ঘটনা-৫:
দেশে ফেরার পথে বিমানবন্দরেই গত কয়েকবছরে অন্তত ২ জন চিকিৎসকও মারা গেছেন।
কেন এমন হয়?
১. পূর্ব থেকেই উপসর্গবিহীন হার্টের সমস্যা থাকা।
২. এ্যাংজাইটি বা টেনশন। যাত্রাকালে ইমিগ্রেশন ক্রস করা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা টেনশনে পড়েন অনেকে।
৩. এক্সাইটেশন বা উত্তেজনা। দেশে ফেরার অতিরিক্ত আনন্দ বা এক্সাইটেশনে হার্টের গতি অস্বাভাবিক বেড়ে যেয়ে বিপদ ডেকে আনতে পারে।
৪. সময় কম নিয়ে বিমানবন্দরে আসায় ফ্লাইট মিস করার আতঙ্ক।
কী করবেন?
১. পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করুন। কাগজপত্র থেকে শুরু করে কোন কিছুর ঘাটতি যেন না থাকে।
২. হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বিমানবন্দরে আসুন। যাতে ইমিগ্রেশনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরও আপনার হাতে যথেষ্ট সময় থাকে।
৩. তথ্য গোপন রাখা বা কাগজপত্রে সমস্যা নিয়ে যাতায়াত করবেন না। এতে অহেতুক মানসিক চাপ তৈরি হয়।
৪. কানেক্টিং ফ্লাইট থাকলে আগে থেকেই নিশ্চিত হোন যাতে ট্রানজিটে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।
৫. আগে থেকে হার্টের সমস্যা থাকলে সাথে জরুরি ঔষধ রাখুন।
৬. বিমানে একটানা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে পায়ের এক্সারসাইজ বসে বসেই করুন।
৭. একা পথ চলতে অনেকে অস্বস্তি বোধ করেন। প্যালপিটেশনের শিকার হোন। প্রয়োজনে পূর্ব থেকেই প্ল্যান করে সংগী নির্বাচন করুন।
৮. অহেতুক কোন টেনশন কাজ করলে মেন্টাল ডাইভারশন করুন। নামাজ/প্রার্থনা/উপসনায় মনোনিবেশ করুন। প্রিয়জনের সাথে কথা বলুন।
৯. নেটওয়ার্কবিহীন থাকলে অনেকের একাকীত্ব ভর করে, ভয়-ভীতি কাজ করে। প্রিয়জনের সাথে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফিলিংস আসে। এক্ষেত্রে সিম রোমিং করে নিন। সার্বক্ষনিক কানেক্টেড থাকুন।
মৃত্যু অবধারিত। তবুও সর্বদা সতর্ক থাকলে বেঁচে থাকাটা সুন্দর হয়।
প্রফেসর ডা. সাকলায়েন রাসেল
ডিপার্টমেন্ট প্রধান, ভাসকুলার সার্জারি বিভাগ
ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট
ডা. সাকলায়েন রাসেলের ফেসবুক পেজ- Dr. Saklayen Russel
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের প্রেমপত্রে নেই ‘মধুময় ভালবাসা’, আছে শুধু ৫০% শুল্কের চিঠি!
