ডেস্ক রিপোর্ট: গতকাল এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, সুশাসন, কার্যকর মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন এবং জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা অপরিহার্য।
রাজধানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘মান্থলি ম্যাক্রোইকোনমিক ইনসাইটস (এমএমআই)’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ মত প্রকাশ করেন। কর্মসূচিটি পিআরআইয়ের সেন্টার ফর ম্যাক্রোইকোনমিক অ্যানালাইসিস (সিএমইএ) এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ (ডিএফএটি) আয়োজিত।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও কারিগরি সক্ষমতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এর ফলে অর্থনৈতিক অলিগার্কের উত্থান ঘটেছে, ব্যাংকিং খাত প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে এবং অর্থনীতির ভিত দুর্বল হয়েছে।
প্রধান অতিথি সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, প্রতি বছর ২০ লাখ নতুন করদাতাকে করের আওতায় আনতে হবে এবং অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ছোট উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বল্পসুদে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।
পিআরআই’র নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশিদ আলম বলেন, “প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে হলে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও অপরিহার্য উপকরণ আমদানিতে বাধা কমানো জরুরি। গভীর ও ব্যাপক সংস্কার ছাড়া স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।”
পিআরআই’র প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান বলেন, কঠোর মুদ্রানীতি এবং ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপের মাধ্যমে অর্জিত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে, যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।
এছাড়া মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান ও অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ডেপুটি হেড অব মিশন ক্লিনটন পব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ব্যাংকিং, কর ব্যবস্থা ও বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিয়ে মন্তব্য করেন।
বিশিষ্ট প্যানেলিস্টরা বলছেন, প্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং কার্যকর তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। রিজওয়ান-উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি পৃথক কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।
