ডেস্ক রিপোর্ট: ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে জিনিসপত্রের দাম আরও ৭ শতাংশ কমতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক অক্টোবর ২০২৫’ প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম কমলেও বাংলাদেশের বাজারে এই প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। দেশে মূল্যস্ফীতির হার এখনো ৮ শতাংশের ঘরে, যা জনগণের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে সামগ্রিকভাবে পণ্যের দাম কমবে ৭ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে আরও ৭ শতাংশ। এটি হবে গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পণ্যমূল্য।
তেলের ও জ্বালানির দাম
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারে নেমে আসতে পারে। ২০২৫ সালে এটি গড়ে ৬৮ ডলার, যা ২০২৪ সালের তুলনায় অনেক কম। তেলের ব্যবহার কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে চীনের চাহিদা হ্রাস, বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রসার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ বৃদ্ধিকে দায়ী করা হয়েছে।
কৃষিপণ্য ও খাদ্যের দাম
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কৃষিপণ্যের দাম ২০২৬ সালে ২ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে আরও ১ শতাংশ কমবে। সয়াবিন, খাদ্যতেল, শস্য ও প্রোটিনজাত খাদ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সারের দাম এখনো ২০১৫–১৯ সালের গড়ের চেয়ে বেশি থাকবে।
চীনের নাইট্রোজেন ও ফসফেট সার রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ এবং রাশিয়া–বেলারুশের ওপর ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা সরবরাহে প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে দাম কমলেও বাংলাদেশে দাম না কমার কারণ
বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল বা বেড়ে চলার মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা টাকার অবমূল্যায়ন, উচ্চ শুল্ক, অদক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনা এবং অতি মুনাফাকে দায়ী করছেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
“বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে তার প্রভাব পড়ে না। সময়মতো আমদানি ও সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন,
“জ্বালানি, পরিবহন ব্যয়, শুল্ক ও করের চাপ এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আন্তর্জাতিক মূল্যহ্রাসের সুফল ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে না।”
গত তিন বছরে ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে এবং ভোক্তাপর্যায়ে পণ্যের দাম কমছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানো না গেলে বিশ্ববাজারে দাম আরও কমলেও দেশের বাজারে এর প্রভাব সীমিত থাকবে।
