ডেস্ক রিপোর্ট: ২০২৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক বাহিনী (মোট জনবল: সক্রিয়, রিজার্ভ ও আধাসামরিক সদস্য) শুধুমাত্র সক্রিয়ভাবে ডিউটিতে থাকা সৈন্যসংখ্যার আর নির্ধারিত হয় না।
বর্তমানে অনেক দেশ বড় আকারের রিজার্ভ বাহিনী, আধাসামরিক ইউনিট এবং মোবিলাইজেশন ব্যবস্থা বজায় রাখে, যা তাদের মোট জনবল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। এই সম্মিলিত সংখ্যা একটি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও প্রস্তুতির আরও বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে।
নাইজেরিয়া ভিত্তিক গণমাধ্যম ভ্যানগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক জনশক্তির দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশ নিচে দেওয়া হলো—
১. বাংলাদেশ — ৭,০০৪,০০০
বাংলাদেশে সক্রিয় সেনা, রিজার্ভ ও আধাসামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে বড় একটি সামরিক কাঠামো রয়েছে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এসব বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২. ভিয়েতনাম — ৫,৭৫০,০০০
ভিয়েতনামের সামরিক ব্যবস্থা “জনগণের প্রতিরক্ষা” নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। দেশটির একটি বিস্তৃত রিজার্ভ সৈন্যের নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা যুদ্ধকালীন সময়ে দ্রুত সক্রিয় করা যায়।
৩. ইউক্রেন — ৫,০০০,০০০
সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ইউক্রেন তার সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। দেশটির বাহিনী সক্রিয় সেনা, রিজার্ভ এবং মোবিলাইজেশন সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল।
৪. ভারত — ৪,৯০০,০০০
ভারতের সেনাবাহিনী বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। দেশটির স্থায়ী সেনাবাহিনীর পাশাপাশি শক্তিশালী রিজার্ভ ও আধাসামরিক বাহিনী রয়েছে, যা সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় কাজ করে।
৫. দক্ষিণ কোরিয়া — ৩,৬৫০,০০০
দক্ষিণ কোরিয়ায় বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে। ফলে দেশটির একটি বড় ও প্রশিক্ষিত রিজার্ভ বাহিনী তৈরি হয়েছে।
৬. রাশিয়া — ৩,৬০০,০০০
রাশিয়ার সামরিক কাঠামোতে স্থায়ী বাহিনীর পাশাপাশি বিশাল রিজার্ভ ও আধাসামরিক বাহিনী অন্তর্ভুক্ত। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক শক্তি।
৭. চীন — ৩,১০০,০০০
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক বাহিনী। বর্তমানে এশিয়ার এই দেশটি আধুনিকায়ন ও দ্রুত মোবিলাইজেশনের ওপর জোর দিচ্ছে।
৮. যুক্তরাষ্ট্র— ২,১০০,০০০
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত। এর মধ্যে রয়েছে সক্রিয় বাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড ও রিজার্ভ ফোর্স।
৯. উত্তর কোরিয়া— ১,৯৬০,০০০
উত্তর কোরিয়া বিশ্বের অন্যতম সামরিকীকৃত দেশ। জনসংখ্যার একটি বড় অংশ সক্রিয়, রিজার্ভ বা আধাসামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত।
১০. তাইওয়ান — ১,৯৩০,০০০
তাইওয়ানে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে এবং একটি শক্তিশালী রিজার্ভ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্বে সামরিক শক্তি শুধু সক্রিয় সেনার সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না, বরং রিজার্ভ, আধাসামরিক বাহিনী এবং দ্রুত মোবিলাইজেশন সক্ষমতার ওপরও নির্ভরশীল।
সূত্র: ভ্যানগার্ড
