ইরান যুদ্ধে পেন্টাগন এমন একটি এআই প্রোগ্রাম ব্যবহার করছে, যা আধুনিক যুদ্ধকৌশলের ক্ষেত্রে সম্ভবত সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনগুলোর একটি। ছবি: এএফপি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলায় পেন্টাগনের একটি বিশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রোগ্রাম ‘প্রজেক্ট মেভেন’ (Project Maven) এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। আধুনিক যুদ্ধকৌশলে একে গেম-চঞ্জার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রজেক্টটি কেন এত রহস্যময় এবং শক্তিশালী? জেনে নিন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
১. প্রজেক্ট মেভেন আসলে কী?
এটি পেন্টাগনের সবচেয়ে শক্তিশালী এআই প্রোগ্রাম। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল কাজ ছিল ড্রোন ক্যামেরার হাজার হাজার ঘণ্টার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করা। আগে সামরিক বিশ্লেষকদের যা করতে দিনের পর দিন সময় লাগত, মেভেন তা মুহূর্তেই করে দিচ্ছে। বর্তমানে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘টার্গেটিং সিস্টেম’-এ পরিণত হয়েছে, যা লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত থেকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়াকে (Kill Chain) অভাবনীয় গতি দিয়েছে।
২. এটি কীভাবে কাজ করে?
মেভেনকে যুদ্ধের ‘ককপিট’ বলা যেতে পারে। এটি স্যাটেলাইট ইমেজ, শত্রুপক্ষের সেন্সর ডেটা এবং নিজস্ব বাহিনীর অবস্থান—সবকিছু একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে। এমনকি কমান্ডারেরা এখন চ্যাটজিপিটি-র মতো সাধারণ ভাষায় মেভেনের সাথে কথা বলে যুদ্ধের নির্দেশনা দিতে পারেন। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সেরা উপায়গুলো কমান্ডারের সামনে তুলে ধরে।
৩. গুগল কেন এই প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল?
শুরুতে গুগল এই প্রকল্পের প্রধান সহযোগী ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে গুগলের ৩ হাজারেরও বেশি কর্মী যুদ্ধের মারণাস্ত্র তৈরিতে যুক্ত হওয়ার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করেন। তীব্র প্রতিবাদের মুখে গুগল চুক্তিটি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গুগল আবারও এ ধরনের কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
৪. প্যালান্টিয়ারের (Palantir) দাপট
গুগল সরে যাওয়ার পর দায়িত্ব নেয় ডাটা অ্যানালিটিক্স জায়ান্ট ‘প্যালান্টিয়ার’। ২০২৪ সাল নাগাদ তারা এই প্রজেক্টের প্রধান কারিগরি অংশীদার হয়ে ওঠে। প্যালান্টিয়ারের সিইও অ্যালেক্স কার্পের মতে, এই প্রযুক্তি কয়েক ঘণ্টার যুদ্ধকে কয়েক সেকেন্ডে নামিয়ে আনতে পারে, যা প্রতিপক্ষকে কার্যত অচল করে দেয়।
৫. যুদ্ধক্ষেত্রে এর ভয়াবহ প্রভাব
ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে মেভেনের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন বাহিনী ১,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। তবে এই গতির একটি অন্ধকার দিকও আছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি হামলায় ১৬৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। ফলে যুদ্ধের গতি বাড়লেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র: জাপান টুডে
