আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজারের প্রচলিত রূপ বদলে দিচ্ছে জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (জেনএআই)। তবে এই পরিবর্তনের প্রভাব সব দেশে সমান হবে না। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক যৌথ গবেষণা বলছে, উন্নত দেশের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উৎপাদনশীলতা বাড়ার চেয়ে কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিই বেশি।
ডিজিটাল বৈষম্য ও শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ
বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে ১৩৫টি দেশের শ্রমবাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জেনএআই-এর প্রভাব উন্নত দেশগুলোতে ইতিবাচক হলেও নিম্ন আয়ের দেশগুলোর চিত্র ভিন্ন। এর প্রধান কারণ:
- দুর্বল ডিজিটাল অবকাঠামো।
- দক্ষ জনশক্তির অভাব।
- কাজের ধরনের ভিন্নতা।
নারী ও তরুণদের চাকরি হুমকির মুখে
প্রতিবেদনে একটি আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেসব পেশা অটোমেশনের ঝুঁকিতে আছে (যেমন—করণিক ও প্রশাসনিক কাজ), সেই কর্মীরা ইতিমধ্যে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এসব দেশে চাকরি হারানোর প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুত হতে পারে। বিশেষ করে এই খাতগুলোতে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বেশি হওয়ায় তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
“প্রযুক্তির সক্ষমতা থাকলেও সংযোগের অভাব ও কাজের ধরনের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো এআই-এর সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারে।” — আইএলও-বিশ্বব্যাংক যৌথ প্রতিবেদন
উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বাধা যেখানে
গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে কর্মীরা মূলত কায়িক শ্রম বা রুটিনমাফিক কাজে বেশি অভ্যস্ত। জেনএআই ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর যে সুযোগ রয়েছে, তার জন্য প্রয়োজন উচ্চমানের ইন্টারনেট এবং ‘নন-রুটিন’ অ্যানালিটিক্যাল কাজ, যার অভাব এই দেশগুলোতে প্রকট।
উত্তরণের পথ কী
প্রতিবেদনে কেবল ঝুঁকির কথা বলা হয়নি, উত্তরণের জন্য ৩টি বিশেষ সুপারিশ করা হয়েছে:
- ডিজিটাল কানেক্টিভিটি: দেশের সর্বত্র নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা।
- দক্ষতা উন্নয়ন: কর্মীদের এআই ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তোলা।
- সামাজিক সুরক্ষা: প্রযুক্তির কারণে কর্মচ্যুতদের জন্য শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
অন্যথায়, বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও প্রকট হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
