ডেস্ক রিপোর্ট: রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার এখন সুসংহত ও স্থিতিশীল। বাংলাদেশ ব্যাংক, আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৩৫ বিলিয়ন ডলারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে একক মাস হিসেবে দেশ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩.৭৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স অর্জন করেছে। এই ইতিবাচক ধারা এপ্রিল মাসেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি এপ্রিলের প্রথম ছয় দিনেই (১-৬ এপ্রিল) দেশে ৬৬০ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৫ শতাংশ বেশি। এই বিপুল প্রবাহ বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে টাকার মানকে স্থিতিশীল রেখেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ এপ্রিলের মধ্যে উদ্বৃত্ত তারল্য ২.৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩.৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, এক মাসেই ১.৬ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত তারল্য যুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সম্প্রতি এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (এসিইউ)-এর ১.৩৭ বিলিয়ন ডলার এবং সরকারি ঋণের ১৮০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করার পরেও রিজার্ভ ৩৪.৩৫ বিলিয়ন ডলারে স্থির থাকা অর্থনীতির সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নেট ওপেন পজিশন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার হওয়া সত্ত্বেও বাজারকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কেনা থেকে বিরত রয়েছে।
টাকার অবমূল্যায়ন নিয়ে বাজারে প্রচলিত জল্পনা-কল্পনাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বর্তমানে একটি চমৎকার ভারসাম্য বিরাজ করছে। বাজারভিত্তিক স্বচ্ছ ব্যবস্থার মাধ্যমে ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, যেখানে কৃত্রিমভাবে মুদ্রার অবমূল্যায়নের কোনো প্রয়োজন নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও নিশ্চিত করেছে যে, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজার সুশৃঙ্খল তদারকির মধ্যে রয়েছে এবং আমদানিসহ যাবতীয় বৈদেশিক দায় পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিদ্যমান।
সুত্র: বাসস
