২০২৬ সালের ১১ মার্চ কম্বোডিয়ার নমপেনে একটি হোটেলে অনলাইন প্রতারণা বিরোধী অভিযান চলাকালীন পুলিশের জব্দ করা কম্পিউটার ও ওয়ার্কস্টেশন
আন্তর্জাতিক ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ‘স্ক্যাম সেন্টার’ বা অনলাইন প্রতারণা চক্র দমনে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ সাইবার অপরাধ আইন পাস করেছে কম্বোডিয়ার পার্লামেন্ট। এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা চাপের মুখেই শুক্রবার এই পদক্ষেপ নিল দেশটি।
কম্বোডিয়ার আইনমন্ত্রী কেউত রিথ বলেন, এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো দেশজুড়ে চলমান ‘শুদ্ধি অভিযান’ জোরদার করা এবং একবার দমন করার পর এই চক্রগুলো যেন আর ফিরে আসতে না পারে তা নিশ্চিত করা।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন: “এই আইনটি মাছ ধরার জালের মতো কঠোর। কম্বোডিয়ায় যেন আর কোনো অনলাইন স্ক্যাম না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোরতা। এটি কম্বোডিয়ার জাতি ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, এই স্ক্যাম সেন্টারগুলো দেশের অর্থনীতি, পর্যটন এবং বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
নতুন সাইবার অপরাধ আইন দণ্ডবিধি
নতুন এই আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এখন কম্বোডিয়ার রাজার কাছে পাঠানো হবে। আইনে অনলাইন প্রতারণায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের জন্য ২ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে কোনো গ্যাং বা সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে অথবা অনেক মানুষের সাথে প্রতারণা করলে সাজা আরও কঠোর হবে। সেক্ষেত্রে দোষীদের ১০ বছর পর্যন্ত জেল এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে। এছাড়া মানি লন্ডারিং, ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে এই আইনে।
আন্তর্জাতিক চাপ ও সাম্প্রতিক পদক্ষেপ
দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংগঠনগুলো কম্বোডিয়াকে সাইবার অপরাধের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছিল। এর আগে সুনির্দিষ্ট কোনো আইন না থাকায় সন্দেহভাজনদের সাধারণত জালিয়াতি বা মানি লন্ডারিংয়ের মতো সাধারণ অপরাধে অভিযুক্ত করা হতো।
গত বৃহস্পতিবার ব্রিটেন কম্বোডিয়ার একটি বিশাল ফ্রড কমপ্লেক্স এবং একটি অনলাইন ক্রিপ্টো মার্কেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ব্রিটেনের দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দ্রুত বর্ধনশীল এই স্ক্যাম নেটওয়ার্কের কর্মীরা সুরক্ষিত কম্পাউন্ডে বন্দি থাকে এবং তাদের জোর করে অনলাইন জালিয়াতি করতে বাধ্য করা হয়।
আগে কম্বোডিয়া সরকার এসব কেন্দ্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করলেও এখন বড় ধরনের অভিযানে নেমেছে তারা। সম্প্রতি তারা লি শিয়ং নামে এক সাবেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে চীনের কাছে হস্তান্তর করেছে, যার বিরুদ্ধে অপরাধী চক্রের অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গত জানুয়ারিতে চেন ঝি নামে এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীকেও গ্রেপ্তার করে চীনে পাঠানো হয়েছে।
মূলত কয়েকশ অবৈধ সাইট বন্ধ এবং এই খাতের মূল হোতাদের আটক করার লক্ষ্যেই কম্বোডিয়া এখন নজিরবিহীন এই তৎপরতা চালাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
