আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানকে দেওয়া মার্কিন আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভয়াবহ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত শর্ত মেনে না নিলে আজ রাতেই ইরান নামক একটি ‘আস্ত সভ্যতা’ ধ্বংস হয়ে যাবে।
‘আর ফিরে আসবে না এই সভ্যতা’
মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “আজ রাতেই একটি আস্ত সভ্যতা বিলীন হয়ে যাবে, যা আর কখনোই ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত এটাই
ঘটতে যাচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় ‘স্মার্ট’ ও ‘কম উগ্র’ মানুষের আগমন ঘটলে হয়তো শেষ মুহূর্তে অলৌকিক কিছু ঘটতে পারে।
রয়টার্স ও এপি-র তথ্যানুযায়ী সংকটের মূল কারণ
- হরমুজ প্রণালির অবরোধ: রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্ব তেলের বাজারের অন্যতম ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ ইরান বন্ধ করে রাখায় এই উত্তেজনার সৃষ্টি। ট্রাম্প মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় মধ্যরাত পর্যন্ত এই প্রণালি খুলে দেওয়ার চূড়ান্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।
- বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু: এপি (AP) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার নির্দেশ দিতে পারেন। তিনি হুমকি দিয়েছেন ইরানকে বোমা মেরে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি ও প্রস্তুতি
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং আইআরজিসি (IRGC) জানিয়েছে, তারা কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং যুদ্ধের পূর্ণ অবসান চায়। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ১৪ মিলিয়ন ইরানি নাগরিক যুদ্ধের জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো রক্ষায় ইরানের সাধারণ মানুষকে ‘মানব ঢাল’ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট এবং আল জাজিরা-র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতুর মতো বেসামরিক অবকাঠামোয় সরাসরি হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী স্পষ্ট ‘যুদ্ধাপরাধ’। তবে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ নিয়ে তিনি ‘বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন’।
বর্তমান পরিস্থিতি
ইতিমধ্যেই ইরানের খার্গ দ্বীপে অবস্থিত প্রধান তেল টার্মিনালে কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তান এই যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি।
